Search  
Bangla Help
 

|    HOME  |   ADVERTISEMENTS     |   CONTACT US     |   COMMENTS    |    USEFUL LINKS    |   CHANGE   PASSWORD    |     CHECK MAIL

 
name
About Ministry of Commerce
Export / Import: Acts
Export / Import: Policies
Export-Import Information
Commercial Wing abroad
WTO & Bangladesh
EIF-DTIS process in Bangladesh
Bangladesh in Regional & Bilateral Trade
Citizen Charter
Country Profile
Minister's Profile & Activities
Senior Secretary's Profile
OnLine Price Monitoring System
 

    Answers will be given within 3 Working Days after Submission of the Question 

 
 
 

Minister's Profile

 
 
Mr. Tofail Ahmed, MP
Honourable Commerce Minister
Government of the People’s
Republic of Bangladesh

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর জীবনবৃত্তান্ত

ঢাকা, ৩০ পৌষ( ১২ জানুয়ারি)ঃ
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলার সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আজহার আলী ছিলেন এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। মা ফাতেমা বেগম। ১৯৬৪ সালে ধনিয়াস্থ আলহাজ মফিজুল হক তালুকদারের জ্যেষ্ঠা কন্যা আনোয়ারা আহমেদের সঙ্গে তিনি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁরা এক কন্যা সন্তানের জনক-জননী।
             তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএসসি পাস করেন যথাক্রমে ১৯৬২ এবং ১৯৬৪ সালে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি পাস করেন। কলেজ জীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৬২ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৬৪ তে ইকবাল হল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র-সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫তে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি, ১৯৬৬-৬৭ তে ইকবাল হল ছাত্র-সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
            ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসুর ভিপি থাকাকালীন সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৬ এর ৮ মে থেকে ১৯৬৯ এর ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করতে তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারাবাংলায় তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করে। তিনি ১৯৬৯-এর ২৫ মার্চের মধ্যে প্রবল পরাক্রমশালী তথাকথিত লৌহমানব আইয়ুব খানকে পদত্যাগে বাধ্য করে গৌরবের যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন, তা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ড্রেস রিহার্সেল। ১৯৬৯-এ তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭০-এর ৭ জুন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তোফায়েল আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বস্তুত এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বাধীনতাপূর্ব ছাত্র ও গণআন্দোলনে সফল নেতৃত্ব প্রদান করায় তিনি দেশবাসীর আস্থা অর্জন করেন। আবাসিক হল ও ডাকসুর ভিপি থাকাকালেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সাহচর্যে আসেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি ভোলার দৌলত খাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদে এবং ১৯৭২-এ বাংলাদেশ গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭২ এর ১৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। এ পদে তিনি ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। ১৯৭৩-এ তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫-এ দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ঘোষণার পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারি নিযুক্ত হন। তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, অটোয়াতে কমনওয়েলথ সম্মেলন, লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলন, আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এছাড়া, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, ইরাক এবং জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সম্মেলনেও তিনি যোগদান করেন।
১৯৭৫- এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকান্ডের পর একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। এছাড়াও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করতে ১৯৮৩, ’৮৫, ’৮৭, ’৯৫, ’৯৬ ও ২০০২-এ তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৭৯-তে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে এই পদ অলঙ্কৃত করে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন এবং সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরপর তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ এর নির্বাচনে ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-এ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গণরায়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর মহান জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় ঐকমত্যের সরকারে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। অর্পিত দায়িত্ব সাফল্যের সাথে যথাযথভাবে পালন করে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। মন্ত্রী থাকাকালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হিসেবে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সম্মেলনে যোগদান করে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্য উন্নত দেশগুলোতে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের অঙ্গীকার আদায় করেন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের আন্দোলনে তোফায়েল আহমেদের অবদান অনস্বীকার্য। যে কারণে তিনি এরশাদ আমলে চারবার এবং ১৯৯৫-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়, তাতে খালেদা জিয়ার আমলেও দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। এছাড়া ২০০২-এ খালেদা-নিজামী জোট সরকারের শাসনামলেও তিনি কারাবন্দি হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বমোট সাতবার কারাগারে অন্তরীণ থাকেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সাবেক সদস্য এবং সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী  তোফায়েল আহমেদকে রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক সংগ্রাম ও বিস্তর বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। আজও তিনি তাঁর সংগ্রামী জীবনে সততা, মেধা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও বাগ্মিতার ফলে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। ১৯৭৫ উত্তরকালে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে দল ও মতাদর্শ পরিবর্তনের চরিত্র অনেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হলেও তোফায়েল আহমেদ প্রলোভন ও হুমকির সামনে কখনোই মাথা নত করেন নি। এমনকি ১/১১-এর পরে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্ত্রী-কন্যাসহ মিথ্যা মামলার আসামী হলেও কোনো প্রকার প্রলোভন বা হুমকির কাছে তিনি নতি স্বীকার করেন নি। জেল-জুলুম-হুলিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রধান অলঙ্কার। ছাত্রাবস্থা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় তিনি সততই অবিচল। প্রায় পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একই আদর্শে ও দলে ধারাবাহিকভাবে থেকে রাজনৈতিক ইন্টিগ্রিটি বজায় রাখার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এলাকার রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির ইত্যাদি শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে পূর্বেকার সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছেন এবং অনাগত দিনে ভোলা জেলাসহ গোটা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার মহতী স্বপ্ন দেখেন।
রাজনীতি ছাড়াও ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচরণে অমায়িক এই সংগ্রামী রাজনীতিকের পরোপকার, বদান্যতা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও সুকুমার শিল্পের প্রতি বিশেষ আগ্রহ তাঁর মনন ও চেতনাকে মহিমান্বিত করেছে। বিগত ১ অক্টোবর ২০০১-এর নির্বাচনে অব্যবহিত পূর্বে ও পরে চারদলীয় জোট সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এ নির্বাচনের পর দেশব্যাপী তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার সংখ্যালঘুসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার-নির্যাতন করে। তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং চারদলীয় জোট ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ ইয়েমেন, ইরাক, মিসর, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, পশ্চিম জার্মানি, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইকুয়েডরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। সুষ্ঠু, অবাধ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠিত অন্তবর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় যোগদানের আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নির্দেশনায় মহাজোট সরকারের আমলে দেশের শিল্পখাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। ১৮ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে পুনঃবণ্টনকৃত মন্ত্রিপরিষদে তিনি শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা -১ হতে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।